পৃষ্ঠাসমূহ

মেঘালয়ের কোলে জোছনা ও জোনাকি

এই শহর আমাকে ক্লান্ত করে তোলে। বিষণ্ন করে তোলে। নানা জট, নানান জটিলতা আর সম্পর্কের টানাপড়েনে বড্ড হাঁপ ধরে যায়। মনের মধ্যে সর্বদাই একটা...

শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১

টেনশন যখন অভিন্ন

 



আপনাকে কতবার বলেছি মোবাইল থেকে ছবিগুলো ডিলিট করে দেন। আপনি আমার কথা শুনলেন না। এখন কী হবে? কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে ডোরা। 

আসলেই বড় ভুল হয়ে গেছে। আমি বুঝতে পারি নি এমনটা হবে। 

আপনি কি নির্বোধ? এত করে না বলার পরও আপনি কেন রাখলেন?

ছবিগুলো তো আমি একদম অকারণে রাখি নি। তোমাকে তো বলেছি ছবিগুলো আমার নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী। মন খারাপ থাকলে এই ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। তোমাকে নিবিড়ভাবে অনুভব করি। 

আপনার আসলে মাথা খারাপ হয়ে গেছে। নতুবা কেউ এমন ঝুঁকি নেয়? আর ছবি দিয়ে কীভাবে আপনার মনোবাসনা পূরণ হয়? 

দেখো, তুমি এখন রেগে আছো বলে সব গুলিয়ে ফেলছো। তুমি তো জানো, তোমাকে সারাক্ষণ কাছে পেতে ইচ্ছে করে। ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। আদর করতে ইচ্ছে করে। সেটা তো সম্ভব নয়। ছবিগুলো আমাকে খানিকটা স্বস্তি দেয়। ভালোবাসা দেয়। আনন্দ দেয়। বলতে পারো দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই। এ কারণে ছবিগুলোকে আমার চোখের আড়াল হতে দেই না। 

আপনার বিকৃত আনন্দের জন্য এখন আমাকে খেসারত দিতে হবে। এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, আপনি কি বুঝতে পারছেন? 

তা হয়তো কিছুটা পারছি। যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে। এখন কী করা যায়, সেটা বলো।

কী করা যায় মানে? আমার মানসম্মান কিছু থাকবে? আমি কি সমাজে মুখ দেখাতে পারবো? আমার চাকরি, আমার পরিবার সর্বোপরি আমার সংসার কি টিকবে? 

তুমি শুধু তোমার কথাই ভাবছো। তুমি যা যা বললে, সেই সমস্যা কি আমার নেই? 

এই সমস্যা আপনি জেনেশুনেই সৃষ্টি করেছেন। আপনি তো আর বাচ্চা ছেলে নন। ছবিগুলো থাকলে এমন কিছু হতে পারে, এটা আপনার না বোঝার কোনো কারণ নেই। আমার জীবনটা আপনি শেষ করে দিলেন। এখন আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না। 

স্বীকার করছি সমস্ত দোষ আমার। তার দায়ভার আমি মাথা পেতে নিচ্ছি। তুমি সবার কাছে নির্দ্বিধায় আমাকে অভিযুক্ত করতে পারো। যা যা বললে তুমি নির্দোষ প্রমাণিত হবে, অবলীলায় তুমি তা বলতে পারো। আমি অস্বীকার করবো না। তোমার কোনো সমস্যা হোক, সেটা আমি চাই না। আমার কারণে তোমার জীবনে কোনো দুর্যোগ নেমে আসুক, সেটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারবো না। আমি তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসি।

মানুষ তো আর আপনার মতো বোকা নয়। যা কিছু বলে বোঝানোর চেষ্টা করি না কেন ছবিগুলো দেখলে কেউ আমার কথা বিশ্বাস করবে না। বিশ্বাস করার কথাও নয়। ছবিগুলো যেভাবে তোলা, তাতে দুজনের মধ্যে যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তা যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবে। কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি আল্লাহই জানে। 

ডোরাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আমার ভিতরটাও হয়ে ওঠেছে অশান্ত। এমন পরিস্থিতির জন্য মোটেও প্রস্তুত নই। এমনিতেই আমি খুব অস্থির। সামান্য কোনো বিষয় মাথায় ঢুকলে ছটফট করতে থাকি। আর এমন একটি মারাত্মক বিষয় কীভাবে সামাল দেবো? এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের দুজনের মান-মর্যাদা। এ ধরনের বিষয় পেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দারুণভাবে লুফে নেবে। ভাইরাল হতে মোটেও সময় লাগবে না। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চাটনি হিসেবে কাজ করে। যা নিয়ে চাটাচাটি করতে সবাই খুব মজা পায়। নিজের খামখেয়ালির জন্য এই চাটনির জোগান দিয়েছি। ফেসবুকে আমি যত ভালো কিছু লিখি না কেন, খুব একটা লাইক পাওয়া যায় না। আমার কোনো ক্যারিশমা নেই। আমাকে নিয়ে কারো কোনো আগ্রহ নেই। ছবিগুলোর কল্যাণে এখন আমি সবার কৌতূহলে পরিণত হবো। ডোরা আর আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান আঙ্গিকে চর্চা করা হবে। আমাদের সাদামাটা জীবনে এমন কিছু নেই, যা নিয়ে খুব বেশি ঘাটাঘাটি করা যেতে পারে। ছবির কারণে কত রকম গবেষণা যে চলবে, তার কোনো পরিমাপ নেই। আমাদের জীবনকাহিনি যে কতটা কদাকার, তা প্রমাণ করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ দেওয়া হবে। হয়তো যে বা যারা দেবে, তারা হয়তো আমাদের চেনেও না। অথচ লাইক পাওয়ার জন্য আগড়ম-বাগড়ম লেখা হবে। তা এড়াতে না হয় ফেসবুক ডিঅ্যাক্টিভ করে রাখলাম। তাতে হয়তো শব্দবাণ থেকে খানিকটা রেহাই পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী-সহমর্মী, কাছের কিংবা দূরের মানুষদের মুখ দেখাবো কীভাবে? কী কৈফিয়ত দেবো? এর কোনো সদুত্তর আমার জানা নেই। 

আমি যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সেখানে আমার সঙ্গে কাজ করে ডোরা। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে আলাদা একটা অবস্থান গড়ে নিয়েছে। কাজ-কর্মে অত্যন্ত দক্ষ। কোনো কাজে তার ওপর অনায়াসে নির্ভর করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছে। তবে শিক্ষার অনুপাতে চাকরিটা মানানসই হয় নি। অর্থনৈতিক কারণে তাকে এই চাকরিটা বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। যদিও এই মন্দার বাজারে চাকরি পাওয়াটা হয়ে ওঠেছে সোনার হরিণ। তারপরও ভালো চাকরির সন্ধানে আছে। সে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও বুদ্ধিমান। মস্ত বড় গুণ, তার বিনয়ী আচার-আচরণ। মার্জিত ব্যবহার দিয়ে সে সহজেই জয় করে নেয় সবার হৃদয়। অফিসের সবাই তাকে পছন্দ করে। আর আমার তো না করার কারণ নেই। বরাবরই আমি এমন একটা মেয়ের ভালোবাসায় স্মাত হতে চেয়েছি। আমার জীবনে এমন মেয়ে কখনো আসে নি। আমি যাকে নিয়ে সংসার করছি, সে ডোরার একদম বিপরীত। সঙ্গত কারণেই সংসারটা সুখের নয়। দিনের বেশিরভাগ সময় আমাকে বাইরে কাটাতে হয়। বাসায় যতক্ষণ থাকি, কারো সঙ্গেই খুব একটা কথা হয় না। অনেক বছর হলো শারীরিক সংশ্রব নেই। এভাবে কি সুস্থ, সুন্দর, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব? সেক্ষেত্রে কোনো উপায় না পেয়ে ‘থাকিতে নিজের হস্ত কেন হবো পরের দ্বারস্থ’-এই নীতিতে চলছি। আমার মনটা ভালো থাকে না। একবার মাংসের স্বাদ পেলে তা থেকে দূরে থাকা কি এত সহজ? শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে খুব ইচ্ছে করে। অথচ করার কোনো সুযোগ নেই। একটা বন্ধন গড়ে তোলার জন্য অস্থির অস্থির লাগে। 

চাকরির সুবাদে কাছ থেকে দেখার পর আমার সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নেয় ডোরা। সে যতক্ষণ অফিসে থাকে আমার খুব ভালো লাগে। মনটা হয়ে উঠে প্রফুল্ল। আমরা পাশাপাশি কক্ষে বসি। কারণে-অকারণে তার রুমে যাই। যদিও সে অন্য সবার সঙ্গে বসে কাজ করে। তাকে সহসা একা পাওয়া যায় না। তাই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তাকে আমার রুমে ডেকে আনি। কাজের কথা বলি। তারচেয়ে বেশি বলি অকাজের কথা। এভাবে কথা বলতে বলতে একটা সময় দুজনের মধ্যে গড়ে উঠে মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক। ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে পাকাপোক্ত হয়েছে আমাদের সম্পর্ক। আমরা অসংখ্যবার ডেটিং করেছি। বাংলা একাডেমির বইমেলা, বসুন্ধরা সিটি, বাংলা নববর্ষে ধানমন্ডি লেকসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাই। ধীরে ধীরে সে স্থান করে নেয় আমার অন্তঃকরণে। ক্রমান্বয়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। কখনো-সখনো তার ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছি। সুযোগ পেয়ে রাত জেগে ভিডিও চ্যাটিং করেছি। আমরা দুজনে অসংখ্য সেলফি তুলেছি। একটু একটু উপভোগ করেছি তার সান্নিধ্য, তার সৌন্দর্য, তার অন্তরঙ্গতা। কখন যেন তাকে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে ভাবতে শুরু করেছি। সে কি তা ভাবে নি? অবশ্য তার মধ্যে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়। আমি বিবাহিত। সন্তানের জনক। তার সঙ্গে আমার বয়সের বিস্তর ব্যবধান। তবে মনের ব্যবধান তো খুব বেশি নয়। তার সব কথা আমাকে বলে। আর আমি তো কোনো কিছুই তার কাছে আড়াল করি না। মনের সঙ্গে যদি মিলে যায় মন, তাহলে আর কী লাগে?  

একটা সময় ডোরার বিয়ের ব্যাপারে তার বাসায় আলোচনা হতে থাকে। লেখাপড়া শেষ করেছে। চাকরি করে। নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিয়ের কথা তো হবেই। একদিন আমাকে জানায়, বিয়ের ব্যাপারে বাসা থেকে একটি ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। ছেলেটি তার সঙ্গে আলাদাভাবে কোথাও কথাবার্তা বলতে চায়। দেখা করতে যাবে কি না আমার কাছে জিঞ্জেস করে। আমি খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বলেছি, দেখা তো করতেই পারো। ছেলেটা তখন আধা বেকার। সংসারের দায়িত্বভার নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করে নি। শেষ পর্যন্ত সেই দেখা যে তাদের মধ্যে স্থায়ী বন্ধনে গড়াবে, এটা আমার ভাবনায় ছিল না। খুব দ্রুতই তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যায়। এত তাড়াতাড়ি সবকিছু ঘটতে থাকলে আমি অনেকটা দিশাহীন হয়ে যাই। তারপরও আমি আশা ছাড়ি নি। এই বিয়ের আগেই আমি তাকে আংটি পরিয়ে অলিখিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমার অস্তিত্বকে তার জীবনে স্থায়িত্ব করতে চেয়েছি। যেদিন তার বিয়ে হয়, সেদিন পার্লার থেকে বউ সেজে আসার পর পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দুজন কৌশলে সবার উপস্থিতিতে একসঙ্গে ছবি তুলি। তার জীবনের সব প্রথমের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছি। এভাবে দুজনের মধ্যে বন্ধন থাকলেও সে আইনগতভাবে অন্যের ঘরণী হয়ে যায়। তাকে নিয়ে আমার স্বপ্নটা বিরাট একটা ধাক্কা খায়। আমি খুব করে চেয়েছিলাম সে যেন আমার কন্যা সন্তানের মা হয়। সে কন্যা সন্তানের জননী হয়েছে। আমি কন্যার পিতা হতে পারি নি। এত কিছুর পরও আমাদের বন্ধনটা ছিঁড়ে যায় নি। যদিও আগের মতো যোগাযোগ নেই। শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও নেই। তাকে ছাড়া আমি নিজেকে ভাবতে পারি না। সে আমাকে এমনভাবে আবিষ্ট করে রেখেছে, তা থেকে মোহমুক্ত হতে পারছি না। প্রতিনিয়ত তার কথা মনে পড়ে। আদর করতে মন চায়। সেটা তো সম্ভব হয় না। তাই আমাদের দুজনের ঘনিষ্ট কিছু ছবি আমার মোবাইলে সযতনে রেখে দেই। যখন ইচ্ছে হয় দেখি। তার ছবি দেখে তাকে কল্পনা করি। আত্মমেহন করি। এটা সে জানে। আমি তো কোনো কিছুই তাকে লুকাই না। সে আমাকে অনেকবার ছবিগুলো ডিলিট করতে বলেছে। জানিয়েছে, নতুবা এই প্রযুক্তির যুগে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। এখন তো মোবাইলে কোনো কিছু নিরাপদ নয়। এ কারণে কত কেলেঙ্কারি ঘটছে। আমাকে অনেক বুঝিয়েছে। আমি একদমই পাত্তা দেই নি। 

সেদিন দেখি আমার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে আমাদের ছবিগুলো নেই। সবকিছু সযতনে আছে। শুধু সেই ছবিগুলো লাপাত্তা। মোবাইলের বিষয়ে ডোরা আমার চেয়ে অনেক বেশি এক্সপার্ট। বিভিন্ন কারণে আমার মোবাইল ডোরার হাতে দিয়েছি। আমি ভেবেছি, সে সময় সে বুঝি ছবিগুলো ডিলিট করে দিয়েছে। এরআগেও সে এমনটা করেছে। তার কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, এবার এমনটা সে করে নি। শুনে আমার বুকটা ধক্ করে ওঠে। তাহলে ছবিগুলো গেল কোথায়? মোবাইলের নানান অপশনে গিয়ে পাগলের মতো খোঁজ করতে থাকি। কোনো সন্ধান পাই না। নিরূপায় হয়ে ডোরাকে বিষয়টা জানাই। সেও তন্ন তন্ন করে আমার মোবাইলে খুঁজতে থাকে। ছবির কোনো রকম হদিস পায় নি। সঙ্গত কারণে তখন সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। হওয়ারই কথা। মেজাজ কিছুটা শান্ত হওয়ার পর ছবিগুলো কোথায় যেতে পারে, তা নিয়ে দুজনে আলোচনা করি। আমি তো কেয়ারলেস টাইপের একটা মানুষ। সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, আমি অনেক সময় বাসায় মোবাইলটা লক না করে অনাদৃতভাবে রেখে দেই। সে সময় কি ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে? আবার এমনও হতে পারে, রাতে ঘুমিয়ে পড়লে আমার আঙুলের ছোঁয়া দিয়ে মোবাইলটা আনলক করা হয়েছে? তাই যদি হয়, তাহলে যে কোনো সময় ভয়ংকর কিছু ঘটে যেতে পারে। আর অন্য কোনোভাবে কেউ যদি ছবিগুলো সরিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে দেয়? এ বিষয়ে আমি অভিজ্ঞদের সঙ্গে কায়দা করে জানতে চেয়েছি। তাতে কোনো আশার আলো দেখতে পাই নি। 

ছবিগুলোর কথা যদি জানাজানি হয়ে যায়, তার পরিণতি কী হতে পারে, সেটা তো আমরা কিছুটা আঁচ করতে পারছি। জানি, বলা যত সহজ, সেটা মেনে নেওয়া তত সহজ নয়। তারপরও বেঁচে থাকার তাগিদে আমরা না হয় সামাজিক নিগ্রহ সইয়ে নিলাম। এছাড়া তো গত্যন্তর নেই। কিন্তু আমাদের চাকরি কি থাকবে? আমরা কি একসঙ্গে কাজ করতে পারবো? এটা আমরা জানি না। সংসার যদি ভেঙে যায়, তখন ডোরা কী করবে? আমিইবা কী করবো? আমরা দুজনে কি একই পথের পথিক হবো? এই ভাবনাগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত দুলিয়ে দিয়ে যায়। কোনো সমাধান খুঁজে পাই না।  

আমরা দুজনে আগের মতোই চাকরি করছি। সংসার করছি। সামাজিকতা করছি। সংকটটা তো মিলিয়ে যায়নি। কোথাও হয়তো ঘাপটি মেরে আছে। তা দুঃস্বপ্ন হয়ে প্রতিনিয়ত ভিতরে ভিতরে আমাদের তাড়া করছে। যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। অজানা এক আতঙ্ক নিয়ে আমরা অপেক্ষার প্রহর গুনছি। এক্ষেত্রে আমরা এখন একই পথের সহযাত্রী। এ বিষয়টি আমাদের দুজনকে আবদ্ধ রেখেছে একই বন্ধনে। আপাতত এ থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নেই। দুজনকেই ভাবতে হচ্ছে দুজনের কথা। ডোরা ভাবছে আমার কথা। আমি ভাবছি ডোরার কথা। আলাদা আলাদা নিজের কথা ভাবলেও সহজাতভাবেই চলে আসছে আরেক জনের কথা। এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের দুজনের ভবিতব্য। তাকে তো আর এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এত দুঃস্বপ্নের মাঝেও ডোরা যে আমার কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে, সেটা আমাকে ভরিয়ে দেয় অন্য রকম এক ভালো লাগায়। তখন আর কোনো আতঙ্ক আমাকে শঙ্কিত করতে পারে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন