পৃষ্ঠাসমূহ

মেঘালয়ের কোলে জোছনা ও জোনাকি

এই শহর আমাকে ক্লান্ত করে তোলে। বিষণ্ন করে তোলে। নানা জট, নানান জটিলতা আর সম্পর্কের টানাপড়েনে বড্ড হাঁপ ধরে যায়। মনের মধ্যে সর্বদাই একটা...

রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৬

বুকের মধ্যে অনুরণিত হয় তাঁর কবিতা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্মৃতি নেই। তারপরও কেন জানি বুকের মধ্যে একটা শূন্য শূন্য অনুভূতি হচ্ছে। সেটা বেশ ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছি। কেন হচ্ছে, সেটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু বোঝাতে পারছি না। আসলে শৈশব থেকে আমার চারপাশের যে জগত গড়ে ওঠেছে, তারমধ্যে আছেন তিনি। তাঁর নাম, তাঁর লেখা, তাঁর সৃষ্টিকর্ম হৃদয়ের গহিনে এমনভাবে জড়িয়ে আছে, তাঁকে কখনো দূরের মনে হয়নি। তাঁর সব লেখাই যে আমি পড়েছি, তেমন দাবি করবো না। তবে উল্লেখযোগ্য বইগুলো পড়েছি, ছুঁয়েছি কিংবা নাম শুনেছি। ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’ পড়ে তেমন একটি জীবনের স্বপ্ন দেখেছি। তাঁর লেখা কত কত কবিতা বুকের মধ্যে এনে দিয়েছে রোমান্টিক আমেজ। তাঁর জীবনের প্রকাশিত অনেক কাহিনীও তো জানা। বাউন্ডুলে, বেপরোয়া, বর্ণময় জীবন। জানতে পেরেছি কখনো তাঁর স্মৃতিচারণায়, কখনো তাঁর চেনা মানুষদের লেখায়। পত্রিকার পাতায় পড়েছি কিংবা টেলিভিশনেও দেখেছি। বাংলাদেশেও তো তাঁর নিত্য আসা-যাওয়া ছিল। এই মাটিরই সন্তান তিনি। সেটা কখনো ভুলতে পারেননি। তাঁর লেখায়ও এর প্রতিফলন দেখা যেত। বিশেষ করে ‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাসে তো জড়িয়ে আছে এই বাংলার মাটি ও মানুষ। সব মিলিয়ে তাঁকে পরিচিত গণ্ডির একজনই মনে হতো। শুধু তাই নয়, মনের মধ্যে একটা ছাপও ফেলে দিয়েছেন তিনি। চারপাশে কত জনকে চিনি, কত জনকে দেখি, তাদের ক’জনইবা মনে দাগ কাটেন কিংবা হৃদয়ে স্থায়ী আসন গাড়েন? তিনি তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সেটা পেরেছিলেন। এ কারণে তার সঙ্গে পরিচয় কিংবা দেখা-সাক্ষাৎ না থাকলেও তিনি আমার আপন বলয়েরই লোক হয়ে আছেন। এমন একজন মানুষ চলে গেলে কাছের কেউ চলে যাওয়ারই অনুভূতি হয়। সেটাই হচ্ছে। ছোট হয়ে গেল আমার জগতটাও। তাঁকে ছাড়া পূজা সংখ্যা কল্পনা করা যায় না। এই তো সেদিনও তাঁর লেখা পড়লাম। তাঁর আর নতুন লেখা পাবো না, ভাবতেই পারছি না। তবে তিনি চলে গেলেও আশে-পাশেই থাকবে তাঁর কালজয়ী সব গ্রন্থ। বুকের মধ্যে অনুরণিত হবে তাঁর কবিতা। সঙ্গত কারণে থাকবেন তিনিও।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন